বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসঃ
বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাটি একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। শিক্ষা-দীক্ষায় জনপদটির পরিচিতি সু-প্রাচীন। এক সময় এ-এলাকার মানুষ স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা অর্জনে যেত দুর-দুরান্তে। চাঁদপুর, ঢাকা অথবা কলকাতায়। সচেতন ও নেতৃস্থানীয় এলাকাবাসী নিজ এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন অনুভব করতে থাকেন। আজ থেকে প্রায় ৭০ বৎসর পূর্বে এক মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯৪৫ ইং সনে এই এলাকাকে আলোকিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয় দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন হতে এদেশের মানবসম্পদের ও মানবীয় গুণাবলী বিকাশে তথা শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কৃষ্টি, সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে বলিয়ান সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার কারিগর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু ১৯৮৬ ইং সনে বিদ্যালয়টি মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে কবলিত হলে পুনরায় প্রায় ২ কি.মি. পূর্বের দিকে এসে বর্তমান অবস্থানে দাঁড় করানোর পিছনে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম তারা হলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু, প্রায়ত প্রধান শিক্ষক, স্বর্গীয় বাবু নারায়ন চন্দ্র দাস এ- এলাকার কৃতি সন্তান জনাব মরহুম কাজী আঃ মজিদ (সাবেক চেয়ারম্যান), জনাব আমির হোসেন হাওলাদার, জনাব মান্নান মিয়া (সাবেক চেয়ারম্যান), জনাব ডাঃ আমির হামজা সরকার, জনাব আবদুল আজিজ তপাদার, জনাব আবদুর হান্নান তপাদার, বাবু প্রিয়বল্লভ সাহা, কাজী সিরাজুল হক, জনাব আলা উদ্দিন প্রধান, জনাব ডাঃ সোলায়মান, জনাব আজহারুল ইসলাম, জনাব সামছুল হক চৌধুরী (বাবুল) (বর্তমান চেয়ারম্যান) এবং এদেশের যুব সমাজের সংগঠন সাথী মহল ও জাগরনী ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ।
বিদ্যালয়টির জীর্ণশীর্ণ অবস্থা থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুগপোযোগী শিক্ষার পরিবেশ সহ সার্বিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ অবদান রেখেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী জনাব মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীরবিক্রম, (এম.পি)। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় এই বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র।
আজকে এ-অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ও স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যাপীঠ জন্ম দিয়েছে অনেক প্রথিত যশা শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
বিভিন্ন তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ লিংক
বিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য
ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা: পর্যাপ্ত অবকাঠামো বিদ্যমান আছে।
প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃংঙ্খলা: বেসরকারী ব্যবস্থাপনা কমিটি বিদ্যমান আছে। প্রতি বছর উক্ত কমিটি কর্তৃক বাজেট অনুমোদন করা হয়। বিদ্যালয়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক কোন ব্যাপারেই অডিট আপত্তি নেই।
এসেম্বলী ও জাতীয় দিবস সমুহ উদযাপন: জাতীয় দিবস সমুহ নিয়মিত যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব সহকারে পালিত হয় এবং নিয়মিত এসেম্বলী ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের জন্য আলাদা আলাদা স¦াস্থ্য সম্মত একটি টয়লেট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত চারটি ও দুইটি গভীর নলকুপ রহিয়াছে।
গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞানাগার: প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) পুস্তক এবং ২০০০ পাঠ সহায়ক বই সমৃদ্ধ ১টি পৃথক পাঠাগার রহিয়াছে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক সামগ্রী সমৃদ্ধ একটি উন্নত বিজ্ঞানাগার রহিয়াছে।
পাঠপাঠনের নিয়মানুবর্তিতা, খেলাধুলা ও সহপাঠ ক্রমিক ব্যবস্থা: নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীর গড় উপস্থিত ৯০% । নিয়মিত ১ম ঘন্টায় শ্রেণি হাজিরা এবং শেষ ঘন্টায় শ্রেণি হাজিরা নেওয়া হয়।শিক্ষকগণ পাঠ উপযোগী উপকরন ব্যবহার করেন এবং পাঠ পরিকল্পনাও করে থাকেন।
শিক্ষার পরিবেশ: বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম এবং সুপরিসর। বিদ্যালয়ে রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ। মেঘনা ও ধনাগোদা বেড়ী বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বে, মেঘনা নদীর পূর্ব পার্শ্বে সু-বিশাল চত্তরে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। প্রতিদিন এখানে দেশীয় শত শত পর্যটকদের আগমন ঘটে থাকে। লেখা পড়ার জন্য অতীব মনোরম এবং আকষর্ণীয় পরিবেশে সুশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা এখানে পাঠদান করা হয় এবং অভিজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সভাপতি চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসাবে ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর সুনাম সর্বজন বিদিত।
বিদ্যালয়ে দুইটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কক্ষ রহিয়াছে। কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটারের সংখ্যা ১১ টি।
প্রতিষ্ঠানের স্কাউট টীম ও রহিয়াছে যার সদস্য সংখ্যা প্রায়-৩২ জন।